ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ (সিএনআরএস) এর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে টিকটিকি, পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ঘুমের সময় বেঁচে থাকার জন্য অনুরূপ অত্যন্ত ধীর শারীরবৃত্তীয় ছন্দ রয়েছে। গবেষণার ফলাফল নেচার নিউরোসায়েন্স (NatNeuro) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা এমন একটি বৈশ্বিক ছন্দের কথা বলছি যা শুধুমাত্র মস্তিষ্ককে নয়, পুরো শরীরকেও জুড়ে দেয়। ঘুমের সময়, প্রাণীরা স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়াকলাপ, হৃৎপিণ্ডের কাজ, রক্তনালী, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং পেশীর স্বরে সিঙ্ক্রোনাসভাবে ওঠানামা করে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে, এই ছন্দটি সুপরিচিত: এটি ধীর-তরঙ্গ (বা গভীর) ঘুমের ভিত্তি।
এই প্রক্রিয়াটির উত্স খুঁজে বের করার জন্য, গবেষকরা 10 টি মেরুদণ্ডী প্রজাতির ঘুম অধ্যয়ন করেছেন। নমুনাটিতে সাতটি সরীসৃপ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে গেকোস, দাড়িওয়ালা ড্রাগন এবং কচ্ছপ, একটি পাখি, একটি তোতা এবং দুটি স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে।
গবেষকরা একটি মাল্টিমডাল পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, একই সাথে সম্পূর্ণ ঘুমের চক্র জুড়ে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ, রক্ত প্রবাহ, শ্বসন এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় পরামিতিগুলি রেকর্ড করে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে সরীসৃপ এবং পাখিরা ঘুমের সময় ক্রমাগত ধীর এবং স্থির ছন্দ অনুভব করে, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ধীর-তরঙ্গ ঘুমের বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি শরীরের সমস্ত পরিমাপ সিস্টেমে প্রকাশ করা হয় এবং বিশ্রাম জুড়ে থাকে।
বিবর্তনীয় আবিষ্কারগুলি বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণীর বাইরে ছিল। 300 মিলিয়ন বছর আগে আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ এবং পাখিদের যে বংশধারাগুলি বিবর্তিত হয়েছিল। যাইহোক, মূল ঘুমের ছন্দ এই সময়ে অনেকাংশে অপরিবর্তিত ছিল, যা এর অন্তর্নিহিত জৈবিক তাত্পর্য নির্দেশ করে।
লেখকদের মতে, এই ধরনের একটি প্রাচীন প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের কার্যকারিতার একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি স্নায়ুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ঘুম-সম্পর্কিত ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।